সুনামগঞ্জে হোটেল শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম
মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে সবেতনে ছুটি নিশ্চিতকরণ এবং সরকার ঘোষিত হোটেল-রেস্টুরেন্ট শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং: চট্র-২৮৮৩) এই কর্মসূচি পালন করে। শহরের রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ শেষে আলফাত উদ্দিন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক নেতারা মালিকপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার তীব্র নিন্দা জানান।
শ্রমিকদের ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, মহান মে দিবসে (১ মে) সকল শ্রমিককে বাধ্যতামূলক মজুরিসহ ছুটি প্রদান, ৫ মে ২০২৫ তারিখে সরকার কর্তৃক ঘোষিত হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতের ন্যূনতম মজুরি গেজেট অবিলম্বে কার্যকর করা, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা, প্রত্যেক শ্রমিককে অবিলম্বে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করে বিদ্যমান সংকট নিরসন করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৫ মে ২০২৫ তারিখে সরকার হোটেল-রেস্টুরেন্ট খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রকাশ করে। প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হতে চললেও সুনামগঞ্জের মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হলেও সুনামগঞ্জে এর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির ফলে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্টে শ্রমিকদের দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা শ্রম আইন-২০০৬ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসব ছুটি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ—কোনোটিরই তোয়াক্কা করছেন না মালিকপক্ষ।
সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি লিলু মিয়া, ওস্তাদ মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিলেট দক্ষিণ সুরমা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন মিয়া, এবং নেতৃবৃন্দ আপ্তাব উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, মতিউর রহমান, মোঃ আলম, হুমায়ুন ও মরিয়ম বেগম।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামো ও শ্রম আইন কার্যকর করা না হলে শ্রমিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: