ঈদে জমে উঠেছে মৌলভীবাজারের মনিপুরী তাঁত পল্লী
Led Bottom Ad

শতকোটি টাকার বাজার দখলের টার্গেট

ঈদে জমে উঠেছে মৌলভীবাজারের মনিপুরী তাঁত পল্লী

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০৪/০৩/২০২৬ ১৫:৪৮:৪৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী তাঁত পল্লীগুলোতে এখন ব্যস্ততার ধুম পড়েছে; দিনরাত তাঁতের ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে আদমপুর, মাধবপুর ও ইসলামপুরের গ্রামগুলো। মনিপুরী শাড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাজারে এর চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার জেলায় প্রায় শতকোটি টাকার পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ব্যবসায়ীরা, যার মধ্যে কেবল কমলগঞ্জ থেকেই ২০ কোটি টাকার কাপড় বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মনিপুরী মুসলিম ও বাঙালি নারীরাও এখন এই শিল্পের সাথে যুক্ত হয়ে শাড়ি, চাদর, ওড়না ও গামছা বুনছেন, যা স্থানীয় চাহি মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশেও। তবে সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মেশিনে তৈরি নকল মনিপুরী শাড়ির দাপটে আসল তাঁত শিল্পীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আদমপুরের তাঁত শিল্পী জুবেদা আক্তার জানান, তাঁত বুনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ও জমি কিনেছেন, কিন্তু সরকারি ঋণের অভাবে মহাজন ও এনজিওর চড়া সুদের দাদন নিয়ে তাঁদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীও পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁত বুনে নিজেদের খরচ চালাচ্ছে, তবে পুঁজি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাবে এই প্রাচীন ঐতিহ্যের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেছেন, অনেক অসাধু চক্র মেশিনে বোনা কাপড়কে মনিপুরী বলে চালিয়ে দিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত করছে, অথচ প্রকৃত মনিপুরী শাড়ির বুননশৈলী ও নকশা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রান্তিক তাঁত শিল্পীরা এই শিল্পকে বাঁচাতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারের কাছে সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad