জামালগঞ্জে বৃষ্টির কবলে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন: খলায় পচে যাচ্ছে ধান
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে প্রকৃতি যেন কৃষকদের সোনালি স্বপ্নের ওপর খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে। আগাম বন্যার আতঙ্ক আর তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে চড়া মূল্যে ধান কাটানোর পর, এখন টানা ভারী বৃষ্টির কবলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের একমাত্র সম্বল। বৃষ্টির পানিতে ভিজে স্তূপ করে রাখা ধানে অঙ্কুর গজিয়ে যাওয়ায় পথে বসার উপক্রম হয়েছে হাজারো কৃষক পরিবারের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওর থেকে ধান কেটে কৃষকরা খলায় (ধান শুকানোর স্থান) স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে ধান শুকানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। স্তূপ করে রাখা ভেজা ধানের ভেতরে তাপ সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত অঙ্কুরোদগম হচ্ছে। ফলে সোনালি ধান পরিণত হচ্ছে চারাগাছে, যা এখন পচে নষ্ট হওয়ার পথে। হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন চরম হতাশা নিয়ে জানান, দীর্ঘদিনের শ্রমে অর্জিত প্রায় ৩০ মণ ধান এখন তাঁর চোখের সামনেই পচে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। একই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন কৃষক দুলাল; বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রায় ২০ বস্তা ধান তাঁকে নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।
কৃষকরা জানান, একদিকে আগাম বন্যার পূর্বাভাস, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের চাপে চড়া দামে শ্রমিক নিয়োগ করে দ্রুত ধান কাটতে হয়েছিল। কিন্তু এরপরই শুরু হওয়া লাগাতার বৃষ্টি তাঁদের সব পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। কৃষক কবির মিয়া বলেন, তিন দিন ধরে ধান খলায় পড়ে থাকলেও রোদের দেখা নেই। এভাবে চললে অবশিষ্ট ধানগুলোও রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাঁদের বিনিয়োগ ও শ্রম—সবই এখন বিফলে যাওয়ার পথে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে, সরকারিভাবে জরুরি ভিত্তিতে কৃষকদের জন্য ধান শুকানোর আধুনিক প্রযুক্তি বা ‘রাইস ড্রায়ার’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা জরুরি। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আপাতত ধান সংরক্ষণে পলিথিন বা ত্রিপল ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও কৃষকরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির যে ভয়াবহতা, তাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়া তাঁদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে জামালগঞ্জের হাওরাঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: