রাষ্ট্রীয় শোকেও ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার আগামী বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা এস এম মাহবুব আলম মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সে কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী ২ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরীক্ষার সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলে তা যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রচার করা হয়। তবে এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২ জানুয়ারিতেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) থেকেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘হিসাব সহকারী’ পদের একটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপরই অনেকেই ভুলভাবে ধারণা করেন যে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত হয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ওই রাতেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব ধরনের গুজব উপেক্ষা করে পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নেবেন এবং পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: