কুলাউড়ায় জরাজীর্ণ লংলা নতুন বস্তি জুনিয়র বিদ্যালয়
Led Bottom Ad

ঝুঁকিতে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীরা

কুলাউড়ায় জরাজীর্ণ লংলা নতুন বস্তি জুনিয়র বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

১৮/১২/২০২৫ ১৩:০৪:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলের লংলা খাস নতুন বস্তি জুনিয়র বিদ্যালয়টি চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো বাঁশের খুঁটি ও টিনে নির্মিত, যেখানে চট ও সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ী পার্টিশন দেওয়া হয়েছে। ভাঙাচোরা ডেস্ক-বেঞ্চ আর নড়বড়ে কাঠামোর কারণে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের ঝড় ও কালবৈশাখীতে বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। ফলে পাহাড়ি এই জনপদের অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লংলা খাস নতুন বস্তি এলাকায় চারটি পঞ্চায়তে বিভক্ত সাত-আট হাজার মানুষের বসবাস। দুর্গম এই পাহাড়ি জনপদে ১৫-১৬ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০১৪ সালে ৬৩ ডেসিমেল জায়গার ওপর বাঁশ ও টিন দিয়ে লংলা নতুন বস্তি জুনিয়র বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়।

বিদ্যালয়টি জুনিয়র পর্যায়ের হলেও বাস্তবে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। বর্তমানে এখানে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। তবে কোনো স্থায়ী ভবন না থাকায় বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ রমজান আলী বলেন,“স্কুলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে আমাদের এলাকার মেয়ে শিক্ষার্থীরা হাইস্কুল পর্যায়ে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পায়। বাঁশের খুঁটির ওপর দাঁড়ানো এই ঘর যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। দ্রুত একটি পাকা স্কুল ভবন নির্মাণ খুবই জরুরি।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জেসমিন নাহার বলেন, “আমি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে স্কুলে আসি। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পড়াই। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসীর কথা ভেবে কাজ করে যাচ্ছি।”

প্রধান শিক্ষক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান আমরুজ জানান, “নিজের এলাকা মনে করেই বিনা বেতনে স্কুলে কাজ করছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা খুবই মনোযোগী, কিন্তু এলাকার মানুষ দরিদ্র হওয়ায় দূরে পড়তে পাঠাতে পারেন না। একটি স্থায়ী স্কুল ভবন হলে অনেক শিক্ষার্থী আবার পড়াশোনায় ফিরতে পারবে।”

স্থানীয়দের দাবি, অবহেলিত এই পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত লংলা নতুন বস্তি জুনিয়র বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে শত শত শিক্ষার্থী ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে এবং শিক্ষার আলো পৌঁছাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad