জলমহাল নিয়ে বিরোধ
রাজনগরে অবৈধ সাব-লিজ ও কৃষিজমি পানিবন্দির অভিযোগ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় একটি সরকারি জলমহাল অবৈধভাবে সাব-লিজ দিয়ে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে পানি আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে জলমহাল–সংলগ্ন দুই শতাধিক একর ফসলি জমি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রতিনিধি মো. ফজলুল হক নিরু। একই দাবিতে রাজনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।
স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের ৮ নম্বর জে এলভুক্ত শালকাটুয়া জলমহাল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ছয় বছরের জন্য ইজারা পেয়েছে ‘সুনালী স্বপ্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’ (নিবন্ধন নম্বর–০২১৮/২৪)। সমিতির সভাপতি বিরেশ বিশ্বাসের নামে ইজারা থাকলেও বাস্তবে সমিতির সদস্যরা জলমহালটির দখলে নেই বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শালকাটুয়া জলমহালের পার্শ্ববর্তী এসএস ও আরএস খতিয়ানের (৩৪০৯, ৩৫১০, ৩৬১৪, ৯০০, ৭২২, ৫৬৩, ৩২০৮সহ) ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ২০০ একরের বেশি কৃষিজমি রয়েছে। সরকারি জলমহালের সীমানা নির্ধারণ না থাকায় একটি প্রভাবশালী পক্ষ জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানি আটকে রেখেছে। ফলে এসব জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে আগে দায়ের করা রিট পিটিশনের (নং–১৪১২৮/১৬) পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
কৃষকদের অভিযোগ, জলমহালটি সমবায় সমিতির নামে বন্দোবস্ত থাকলেও জলমহাল নীতিমালা–২০০৯ লঙ্ঘন করে এটি মৌলভীবাজার জাতীয়তাবাদী উলামা দলের এক নেতা ও রাজনগর উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছে সাব-লিজ দেওয়া হয়েছে। জলমহালের পশ্চিম পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ভেতর বাঁধ নির্মাণের ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি জমিতে বাঁশ ও ডালপালা ফেলে দখলের চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে দায়ের করা একটি মামলায় (পিটিশন নং–৩২২/২০২৫) আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। গত রোববার আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে সেখানে পাওয়া যায়। এ সময় বাদীপক্ষকে গালাগাল করার অভিযোগও তোলা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের নেতা মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো সাব-লিজ নেইনি। যাঁরা ইজারাদার, তাঁরাই জলমহালে আছেন। আমরা কেবল সহযোগিতা করছি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।’
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সরকারি জলমহালে অবৈধভাবে কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। সাব-লিজ দেওয়ার কোনো বিধানও নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: