মৌলভীবাজারের শতবর্ষী প্রাচীন সুপারির হাট কামালপুর বাজার
Led Bottom Ad

মৌলভীবাজারের শতবর্ষী প্রাচীন সুপারির হাট কামালপুর বাজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৫/১২/২০২৫ ১২:৫৮:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর বাজারে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে একটি প্রাচীন গ্রামীণ সুপারির হাট। সময়ের সঙ্গে বাজারের অবকাঠামো বদলালেও সুপারির এই ঐতিহ্যবাহী হাট আজও একইভাবে জমজমাট ও প্রাণবন্ত। জেলার পাশাপাশি পুরো সিলেট অঞ্চলেই এই হাটের সুনাম রয়েছে।


ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে, সদর উপজেলার ৩ নম্বর কামালপুর ইউনিয়নে হাটটির অবস্থান। বাজারে নানা পণ্যের কেনাবেচা হলেও প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার সুপারি কেনাবেচার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত এই হাট। শুক্রবারও তুলনামূলকভাবে বেচাকেনা হয়।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় একশ বছর আগে মনু নদের তীর ঘেঁষে ছোট পরিসরে হাটটির যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকেই শনি ও মঙ্গলবারের সুপারির হাট নিয়মিত বসছে। প্রতিটি হাট শুরু হয় সকাল সাতটার দিকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কৃষক ও পাইকারদের উপস্থিতিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ১০টার দিকে হাটে সর্বাধিক ভিড় দেখা যায়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যেই বেশির ভাগ কেনাবেচা শেষ হয়ে যায়।


শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে ছোট-বড় পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে সুপারি নিয়ে আসছেন তাঁরা। কেউ নিজের বাগানের সুপারি এনেছেন, কেউ আবার গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে কিনে আনা সুপারি বিক্রি করছেন। বস্তা খুলে মাটিতে ছড়িয়ে কিংবা বস্তার মুখ খোলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে দরদাম চলছে। কাঁচা সুপারির স্তূপের মাঝেই চলছে পাইকারদের দরকষাকষি। দর ঠিক হলে একটু আড়ালে গিয়ে গণনা শুরু হয়।


অনেকে সকালেই গাছ থেকে সুপারি পেড়ে সরাসরি হাটে আসেন। টুকরি হাতে এমন অনেক কৃষককে দেখা গেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিক্রেতা ও ক্রেতার সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ে কোলাহল। পুরো এলাকা যেন সুপারির হাটে পরিণত হয়।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি হাটে গড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার সুপারি কেনাবেচা হয়। মৌলভীবাজারের পাশাপাশি হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। নবীগঞ্জ, ইনাতগঞ্জ, গোয়ালাবাজার, টেংরা, আদমপুর, শমসেরনগর, শ্রীমঙ্গলসহ নানা স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে নিয়ে যান। বাজার শেষে বস্তাবন্দী সুপারি ট্রাক ও পিকআপে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।


সুপারির হাটের প্রভাব পড়েছে আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বাজারসংলগ্ন দোকান, হোটেল ও পরিবহন খাত এই হাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মনু নদীর তীরবর্তী হাওর ও সমতলের গ্রামগুলোকে যুক্ত করে শত বছরের এই হাট এখনো এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad