ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় জুড়ী নদী এখন ময়লার ভাগাড়
Led Bottom Ad

হুমকিতে হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য

ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় জুড়ী নদী এখন ময়লার ভাগাড়

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১২/১২/২০২৫ ১০:৩৯:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভারত থেকে নেমে আসা স্রোতস্বিনী জুড়ী নদী মিলিত হয়েছে দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাশয় হাকালুকি হাওরে। কিন্তু এই নদী এখন হুমকির মুখে—মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার দু’টি প্রধান বাজার কামিনিগঞ্জ ও ভবানিগঞ্জের ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদীটি। প্লাস্টিক, পলিথিনসহ প্রতিদিনের বর্জ্য নদীতে ফেলায় তা ভেসে যাচ্ছে হাওরে, ফলে নষ্ট হচ্ছে জলজ প্রাণীর বাস্তুতন্ত্র আর মানুষের খাদ্যচক্রেও ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতেই বর্জ্য ফেলছেন। অনেকেই আবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে নদীতে ময়লা ঢালেন।

কামিনিগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসান আহমদ বলেন, “জুড়ী নদী আগে অনেক বড় ছিল। এখন সব ময়লা নদীতে ফেলায় নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।”

জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান আহসান জানান, “প্রতিদিনই দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। আমাদের জন্য এটি খুবই বিরক্তিকর।”

বাজারের প্রবীণ নাগরিক মানিক মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “অসচেতনতার কারণে নদীর সর্বনাশ হয়েছে। নদী তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।”

ভবানিগঞ্জ বাজার সমিতির সভাপতি এম এ মহসীন মুজিব বলেন, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে জমি পাওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

পরিবেশ আন্দোলনের নেতা খুরশেদ আলম জানান, “নদীতে ফেলা বর্জ্য হাওরে গিয়ে মিশছে। এতে জলজ প্রাণী বিশেষ করে মাছ মাইক্রোপ্লাস্টিক খাচ্ছে, যা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”

সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণায়ও মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাবলু সূত্রধর বলেন, “পৌরসভা না থাকায় পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে। জমি পাওয়া গেলে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন ও কঠোর নজরদারি না হলে নদী ও হাওরের পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad