হকার্স মার্কেটের গোপন আস্তানায় অভিযান
সিলেটে নিষিদ্ধ 'গণচিনি' দিয়ে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
সিলেট নগরের জনবহুল লালদিঘির পাড় হকার্স মার্কেটে গড়ে উঠেছিল এক অভিনব ভেজাল পণ্যের কারখানা। মার্কেটের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অত্যন্ত গোপনে নিষিদ্ধ ‘গণচিনি’ ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল যৌন উত্তেজক সিরাপসহ বিভিন্ন নকল পণ্য। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই কারখানার সন্ধান পেয়ে সেখানে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই গোপন আস্তানায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘গণচিনি’ ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক বিভিন্ন সিরাপ ও পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারে সরবরাহ করা হতো। এ অপরাধে শাহ জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই অভিযানে অনুমোদনহীন শিশুখাদ্য বিক্রি এবং স্বনামধন্য বিভিন্ন কোম্পানির ট্রেডমার্ক ও প্যাকেজিং জাল করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার অপরাধে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু জানান, উৎপাদিত এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক ও পদার্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ভেঙে দেয়। অতীতে এসব ভেজাল পণ্য সেবনে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা পণ্যের প্যাকেজিংয়ে উৎপাদক হিসেবে ‘পাবনা, বাংলাদেশ’ লেখা থাকলেও এর প্রকৃত উৎস এবং নেপথ্যে থাকা চক্রটি সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা।
অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জয়নাল আবেদীন, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম মিশু বলেন, বাজার মনিটরিং ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে নিয়মিত সভা-সেমিনার করা হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে এ ধরনের অবৈধ ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল ও নকলের বিরুদ্ধে এমন সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: