পাথর কাণ্ডে সিলেট ছাড়লেন ওএসডি হওয়া ডিসি

পাথর কাণ্ডে সিলেট ছাড়লেন ওএসডি হওয়া ডিসি

প্রথম ডেস্ক

২০/০৮/২০২৫ ১৭:০১:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের পাথর লুট নিয়ে সমালোচনার মুখে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদ সিলেট ছেড়েছেন।


বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেন। পরে বেলা ১২টার কিছু পর তিনি সরকারি গাড়িতে করে কার্যালয় ত্যাগ করেন। এসময় তার গানম্যানও সাথে ছিলেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বৃহস্পতিবার সিলেটে যোগ দেবেন। তার আগ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক সূবর্ণা সরকার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

গত সোমবার (১৮ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করা হয়। তিনি গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের ডিসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তার দায়িত্বকালেই জাফলং, ভোলাগঞ্জ, সাদাপাথরসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে ব্যাপক বালু-পাথর লুটের অভিযোগ ওঠে।

বিশেষ করে সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাট নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর থেকেই প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি বলেন, “পাথর লুটে স্থানীয় প্রশাসনের দায় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তার এমন বক্তব্যের পরদিনই ডিসি মুরাদকে ওএসডি করা হয়। একইদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারাও জানান, পাথর লুটে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট।

১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মো. সারোয়ার আলমকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রসঙ্গত, সারা দেশে ৫১টি কোয়ারি থাকলেও সিলেটেই রয়েছে আটটি বড় পাথর কোয়ারি। এছাড়া সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ আরও অন্তত ১০টি জায়গা পাথরের জন্য পরিচিত, যেগুলো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রও। তবে ২০২০ সালের পর পরিবেশগত ক্ষতির কারণে কোয়ারি ইজারা বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের চাপে বারবার ইজারা চালুর চেষ্টা হয়েছে।

সরকার অনুমতি না দেওয়ায় গত এক বছর ধরে প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে পাথর লুট চলে আসছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

 

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: