বেপরোয়া পাথর খেকো চক্র,নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে জাফলং চা বাগান
Led Bottom Ad

নেপথ্যে বিএনপি সিন্ডিকেট

বেপরোয়া পাথর খেকো চক্র,নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে জাফলং চা বাগান

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০২/০৮/২০২৫ ১৫:১০:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

জাফলংয়ের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ সারাদেশের পর্যটক। পর্যটন কেন্দ্র জাফলং সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। মেঘালয়ের সুউচ্চ পাহাড়, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারা, ঝর্ণা, চা-বাগান এবং কাশিয়া আদিবাসীদের জীবনধারা জাফলংকে অন্যন্য পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।এখানে পিয়াইন নদী ভারতের পাহাড় থেকে নেমে এসে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবাহিত হয়েছে,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের জাফলং, যা পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। জাফলংয়ে রয়েছে চা-বাগান, যা পাহাড়ের ঢালে এক মোহনীয় সৌন্দর্য তৈরি করেছে। চা বাগানের সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।


কিন্তু প্রকৃতির এই রাজ্যে এখন হানা দিয়েছে মানুষরূপী কিছু দানব। যারা নিজেদের হীন স্বার্থে প্রকৃতির এই রাজ্য ধ্বংসের হোলি খেলায় মত্ত হয়েছে। একটি বালু পাথর খেকো একটি পরাক্রমশালী সিন্ডিকেটের কাছে এখন বিলীন হতে চলছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য। এই চক্র আগেও ছিল। তবে চব্বিশের অভ্যত্থান পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন সিন্ডিকেটের পালা বদল হয়েছে। এতে সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়েছে বটে তবে থেমে থাকেনি ধ্বংসযজ্ঞ। ধ্বংসযজ্ঞের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন বিএনপি দলীয় স্থানীয় একটি দুষ্টচক্র। এই চক্রের হাতে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে জাফলং চা বাগান। প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে তাদের তান্ডবযজ্ঞ চলতে থাকলেও প্রশাসনকে থাকতে হয় নীরব ভূমিকায়। 


জাফলং চা বাগানটি পূর্বজাফলং ও মধ্যজাফলং দুই ইউনিয়নের নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত। ফলে নদীর দু’তীরের সৌন্দর্য্যও অভিভূত করে পর্যটকর্দে। সেই দৃশ্য মানবরাজ্যে রেখ্পাাত করলেও হুশ-জ্ঞানহীনদের কাছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। চা বাগান যেন তাদের কাছে এক সোনার খনি। এই খনির পিছু ছাড়ছে না কেউই। ফলে নদীর দু’তীর থেকে চলছে বালু-পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। অব্যাহত বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে চা বাগানটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একই সাথে চা বাগান সংলগ্ন  সুপারি বাগান, বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা চরম হুমকির মুখে। 


এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর এলাকাবাসীর। কিন্তু প্রতিবাদের দু:সাহস নেই কারো। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও ওই সিন্ডিকেটের কথায় উঠ-বস করে-এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। চা বাগান সংলগ্ন একটি স্থানে কথা হয় সোহান নামের স্থানীয় এক যুবকের সাথে। তিনি জানান, বালু-পাথর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন একটি চক্র, যাদের অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। জড়িত হিসেবে তিনি বিএনপি নেতা ইস্টালিং, কামাল মেম্বার,জাহিদ কামরুল ও খাইরুলের নাম উল্লেখ করেন।  


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় খাসিয়া যুবক জানায়, ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চা বাগানের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে। যেকোন সময় বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু দু:খ লাগে, স্থানীয় প্রশাসন এ্যকশন না নিয়ে উপরন্তু তাদের সহযোগীতায় এগিয়ে আসে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় এবং রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে বালু-পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করে এই চক্র। বালু-পাথর থেকে প্রতিদিন এই চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যার একটি অংশ চলে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে।  ফলে এ বিধ্বংসী তান্ডব দেখেও না দেখার ভান করছে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।

গেল মাসের ৩১ জুলাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রতন কুমার অধিকারী’র নেতৃত্বে এ অভিযানে এ সময় ৩৫টি নৌকা ডুবিয়ে দেয়া, ২০টি বালু বোঝাই নৌকা ধ্বংস এবং ৫টি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করা হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ঘটনা যে হয় নি, তা বলা যাবে না। কিন্তু এষনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। নিয়মিত সেখানে পুলিশ পাহারা রয়েছে। বালু পাথর সিন্ডিকেট গুলোকে সতর্ক কওে দেওয়া হয়েছে।   


গোয়াইনঘাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকার তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘আমরা তো একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। অভিযান কালে ড্রেজার মেশিনসহ বালু পাথর বোঝাই নৌকা আটকের খবরও আপনারা পেয়েছেন। তবুও রাতের অন্ধকারে শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে বালু পাথর উত্তোলন চলছে বলে খবর পেয়েছি। তবে আমাদের পুলিশী কার্যক্রম এবং মনিটরিং রয়েছে।’ 


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad