আগাম বৃষ্টির হানা
হাকালুকি হাওরে জলাবদ্ধতায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলার কৃষিজীবীদের প্রধান অবলম্বন হাকালুকি হাওরের বোরো ফসল নিয়ে শুরুতেই শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। গত ৮-১০ দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০০ একর জমির ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে হাওরপাড়ের হাজারো কৃষকের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাকালুকি হাওর সংলগ্ন কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার চাতলা, নাগুয়া, তুরল, পিংলা ও ঘুরঘুরি বিল এলাকার কৃষকরা জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকায় আবাদ করা বেশিরভাগ বোরো ক্ষেতে ধান এখনো অপরিপক্ব; কোথাও থোড় আবার কোথাও আধা চাউলে ভরা। পানিবন্দি এসব ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে অনেক কৃষক নিরুপায় হয়ে আধা পাকা অবস্থায় ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শতভাগ বোরো আবাদ অর্জিত হলেও চৈত্র মাসের শুরুতেই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের নিচু এলাকার জমিগুলো প্লাবিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, নিচু এলাকায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করায় এবং এই গাছগুলো লম্বায় ছোট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই দ্রুত তলিয়ে যায়।
এদিকে জেলার কাউয়াদীঘি হাওরেও মনু সেচ প্রকল্পের আওতাধীন থাকা সত্ত্বেও পানির উচ্চতা সামান্য বেশি থাকায় শালকাটুয়া বিল সংলগ্ন এলাকায় কৃষকরা আতঙ্কিত রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানালেও হাকালুকি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: