জাতীয় উদ্যান ঘোষণার ৩০ বছরে অস্তিত্ব সংকটে লাউয়াছড়া
Led Bottom Ad

নির্বিকার বন বিভাগ

জাতীয় উদ্যান ঘোষণার ৩০ বছরে অস্তিত্ব সংকটে লাউয়াছড়া

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৯/০৪/২০২৬ ১৫:৪৩:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হওয়ার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া বন এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ১২৫০ হেক্টরের এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি গাছ, বাঁশ ও বেত চুরি, বনভূমি দখল এবং বন্যপ্রাণীদের খাদ্য সংকটের কারণে দ্রুত তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। বর্তমানে বনের ঘনত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ অনেক প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উদ্যান ঘোষণার ৩০ বছর পার হলেও বন বিভাগ এখন পর্যন্ত বনের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করতে পারেনি, যার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বনের জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত বাগান। বনের বুক চিরে চলে যাওয়া সড়ক ও রেলপথে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রাণীরা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। বনের অভ্যন্তরে পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক পরিবেশকে আরও বিপন্ন করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুততম সময়ে দখলকৃত জায়গা উদ্ধার করে সীমানা নির্ধারণ এবং গাছ উজাড় বন্ধ করা জরুরি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) পক্ষ থেকে বছরে অন্তত ছয় মাস বনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও, সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস জানিয়েছে বনের সীমানা জরিপ সংক্রান্ত কোনো আবেদন তারা এখনো পাননি। এই সমন্বয়হীনতা ও অবহেলার কারণে লাউয়াছড়া তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে এখন কেবলই কাগজে-কলমে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে টিকে আছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad