কমলগঞ্জে ১৩ দিন ধরে বন্ধ হাসপাতাল: সেবা বঞ্চিত লক্ষাধিক চা শ্রমিক
Led Bottom Ad

কমলগঞ্জে ১৩ দিন ধরে বন্ধ হাসপাতাল: সেবা বঞ্চিত লক্ষাধিক চা শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৯/০৪/২০২৬ ১০:৩৮:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’ টানা ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে গত ২৭ মার্চ থেকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম চিকিৎসাসংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস (১৩) মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজনরা ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতাল স্টাফদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার খাতিরে হাসপাতালের চিকিৎসাকার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি ডানকান ব্রাদার্সের অধীনে থাকা ১৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের একমাত্র আধুনিক চিকিৎসাস্থল। বর্তমানে হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন এবং অনেকে বাধ্য হয়ে জেলা বা উপজেলা সদরে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসকরা ভয়ে আসছেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রধান কার্যালয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, “দ্রুত সেবা চালু করার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।”

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি ইংল্যান্ড থেকে ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে এসেছিলেন। হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।”

বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত চা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও দুর্ভোগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে হাসপাতালটিতে পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা শুরু হবে। এলাকায় শান্তি রক্ষায় পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। চা শ্রমিকদের প্রাণের দাবি—ভুল চিকিৎসার তদন্ত হোক, কিন্তু জরুরি এই হাসপাতালটি যেন আর বন্ধ না থাকে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad