টানা পাঁচ মাস বৃষ্টিহীন
কুলাউড়ায় খরতাপে ঝলসে যাচ্ছে ২৬ চা-বাগান, উৎপাদনে ধসের শঙ্কা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় টানা পাঁচ মাস বৃষ্টি না হওয়ায় ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে ২৬টি চা-বাগান; প্রচণ্ড দাবদাহে নতুন ও পুরাতন চা-গাছ পুড়ে ঝলসে যাওয়ায় চলতি মৌসুমে চা উৎপাদনে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে বাগানের ভেতরের নালা ও খালগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে, ফলে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা বা স্প্রে করেও চা-গাছ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাগান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, অধিকাংশ বাগানে ইতোমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গাছ খরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বৃষ্টিনির্ভর এই শিল্পে নতুন কুঁড়ি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। গাজীপুর চা-বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক জয়ন্ত ধর জানিয়েছেন, তাদের বাগানের ১ হাজার ৬৪৫ একর জমির ৩০ শতাংশ গাছই রোদে ঝলসে গেছে, যার ফলে গত বছরের ১১ লাখ ৭২ হাজার কেজি উৎপাদনের রেকর্ড এবার ছোঁয়া সম্ভব হবে না।
একইভাবে দিলদারপুর-ক্লিভডন চা-বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদিন জানান, গত বছর গুণগত মানে রেকর্ড করলেও এবার প্রচণ্ড খরতাপে পুরাতন গাছের পাশাপাশি নতুন রোপণ করা গাছগুলোও মারা যাচ্ছে।
লোহাইউনি-হলিছড়া চা-বাগানের উপ-মহাব্যবস্থাপক ফারুক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খাল-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় সেচ পদ্ধতি পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে এবং এখনো চা চয়ন শুরু করা যায়নি।
আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ৯১.৬৭ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হলেও ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা বৃষ্টির দেখাও মেলেনি; সামনে চৈত্র মাসের তীব্র রোদে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন প্রতিকূল অবস্থায় চা-গাছে নানা রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকরা বাগান রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন এবং দ্রুত বৃষ্টি না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বহুগুণ কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: