সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ছয় লেন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য কম নির্ধারণের অভিযোগ
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্পের জন্য ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চললেও ভূমির মালিকরা মূল্য নির্ধারণ অসত্য ও কম হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমির মালিকেরা। শনিবার ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ উত্থাপন করে জানান, গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজার এলাকায় জমির দাম বাস্তবতা থেকে অনেক বেশি। কিন্তু মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে তাদের জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং প্রতি শতক মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বলেন, এই মূল্য বাস্তবতার সাথে মেলে না।
বক্তারা আরও জানান, গোয়ালাবাজার-তাজপুর এলাকায় দোকান কোঠার জায়গার দর আকাশছোঁয়া। অনেক জায়গায় প্রতি শতক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর থাকলেও কেউ বিক্রি করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এছাড়া ওসমানীনগর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সর্বশেষ এসেসমেন্ট অনুযায়ী তাজপুর ইউনিয়নের দুলিয়ারবন্দ মৌজায় প্রতি শতক দোকানভিটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বরায়া মৌজায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭০ টাকা, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গ্রামতলা মৌজায় ১৮ লাখ টাকা নির্ধারিত আছে। কিন্তু কীভাবে এই মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিতে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাজপুর ইউনিয়নের খাসিপাড়া গ্রামের ভূমি মালিক জাহেদ আহমদ। তিনি বলেন, “অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত মূল্য বাস্তবতার সাথে খাপ খায় না। প্রকল্পের স্বার্থে হলেও ভূমির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে তা যথাযথভাবে পরিশোধ করা উচিত।”
বক্তারা আরও দাবি করেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্য ভূমি উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। তারা বলেন, “ভূমির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে তা দ্রুত পরিশোধ করলে ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হবে এবং প্রকল্প কাজও বাধাহীনভাবে এগোবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মালিক ও বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা— যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি শাহ খালিছ মিনার, শায়েক আহমদ, জুবায়ের আহমদ, আব্দুস সালাম রশিদি, মো. আনোয়ার হোসেন, ফারুক জাহাঙ্গীর, জোবায়ের আহমদ প্রমুখ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: