সিলেট-২ আসনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই
Led Bottom Ad

আতঙ্কে এলাকাবাসী

সিলেট-২ আসনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওসমানীনগর

০৮/০১/২০২৬ ১৫:০৮:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে জোরালো অভিযান চালাচ্ছে, তখন সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনে তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত সরকারের সময় বিরোধী দল দমনের নামে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও আধুনিক অস্ত্র প্রবেশ করে। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সিলেট-২ আসনে সেসব অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনী কিংবা থানাপুলিশের কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়েনি।

বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে গুলি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ঘটনায় কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, অনেক অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এতে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সিলেট-২ আসনটি নির্বাচনের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর মাইজগাঁও গ্রামে প্রবাসী আছান খাঁ ও শফিকুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে গোষ্ঠীগত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় ও আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়নি, উদ্ধার হয়নি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্যাডার ও গোষ্ঠীর হাতে এখনও বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অস্ত্রের প্রবাহ আগের তুলনায় কমেনি, বরং বেড়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ বা সমন্বিত অভিযান দেখা যাচ্ছে না। এতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার, বাজারকেন্দ্রিক জনসমাগম ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “নির্বাচন যত কাছে আসছে, ততই প্রকাশ্যে গুলি চালানোর শঙ্কা বাড়ছে। মানুষ আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।”

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলেট-২ আসনে সেই অগ্রাধিকারের বাস্তব প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad