সিলেটে অস্ত্র আতঙ্ক: লুট হওয়া ১৬ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি
সিলেটে গত বছর ৫ আগস্টের আগে আন্দোলনকারীদের দমাতে সরকার সমর্থকরা রাজপথে নেমেছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে। তবে ওই সময় ব্যবহৃত কোনো অস্ত্রই এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যেও ১৬টি এখনো উদ্ধার হয়নি। নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশের তথ্য পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানে গত ১২ দিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাড়ে ৪০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তবে এর আগে রাজনৈতিক কর্মীদের কাছ থেকে এবং বিভিন্ন বাড়ি থেকে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়।
গত বছর আন্দোলন দমনের সময় সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হাতে এম-১৬ রাইফেলসহ আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও লাঠি দেখা যায়। তৎকালীন সিটি মেয়রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শিবলু আহমদের হাতেও এম-১৬ রাইফেল দেখা গেলেও চিহ্নিত কোনো অস্ত্রধারীকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে পারে।
পুলিশ জানায়, সরকার পতনের পর সিলেট নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ১০১টি অস্ত্রের মধ্যে ৮৫টি উদ্ধার করা হয়েছে। লুট হওয়া ১২৬ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার হয়েছে। তবে বাকি অস্ত্রগুলো অবৈধভাবে বিক্রির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। ১০ ডিসেম্বর নগরীর মেন্দিবাগ গার্ডেন টাওয়ারে অভিযানে শটগানের ২৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় যুবদল সংশ্লিষ্ট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৬ নভেম্বর দক্ষিণ সুরমায় একটি বাড়ি থেকে সাউন্ড গ্রেনেড, ২৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জে বিদেশি রিভলবার ও বিস্ফোরক এবং ১৩ ডিসেম্বর গোয়াইনঘাটে বন্দুক ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে র্যাব।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আখতার বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র জননিরাপত্তা ও আসন্ন নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ৫ আগস্টের আগে ও পরের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: