পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা
গোলাপগঞ্জে আশার আলো দেখাচ্ছে লেকভিউ গার্ডেন
প্রাকৃতিক সম্পদ আর অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সিলেটের গোলাপগঞ্জ। পর্যটন শিল্পের জন্য এই অঞ্চল সকল উপযোগীতা ও সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে সেটি ছিল উপেক্ষিত। এই শিল্পে কেউ বিনিয়োগে না আসায় ফিকে হয়ে যায় উপজেলাবাসীর স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও গোলাপগঞ্জের সন্তান লেখক ও সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান।
তিনি চলতি বছরে যাত্রা শুরু করেন এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞের। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামে সবুজে ঘেরা ১২০০ শতক জমির উপর শুরু করেন লেকভিউ গার্ডেনের যাত্রা। ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই গার্ডেনে আনারস, কমলা, মাল্টা, লেবুসহ রয়েছে নানা জাতের ফলদ বৃক্ষ। রয়েছে সারি সারি বৃক্ষের অপূর্ব সমাহার। সবুজের এই গোটা পরিবেশ যেকোন পর্যটককে প্রথম পরিদর্শনেই মুগ্ধ করে দিবে অনায়াসে।
লেকভিউ গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান ‘প্রথম সিলেট’ কে জানান, এই প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে লেকভিউ গার্ডেন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পারিবারিক আনন্দ উপভোগের এক অনন্য ঠিকানা হিসেবে এটি গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে গেল ২৮ জুন শনিবার লেকভিউ গার্ডেন পরিদর্শন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকর অধিশাখার যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দিন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল, গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাশরেফুল আলম এবং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মসরুর রহমান।
অতিথিরা বাগানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে আনারস, কমলা, মাল্টা, লেবুসহ নানা জাতের ফলদ বৃক্ষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। গার্ডেন পরিচালনায় যুক্ত আনোয়ার হুমায়ূন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ উদ্যোগ সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে যুগ্মসচিব লেকভিউ গার্ডেনের সম্ভাবনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন জাতের চারা সরবরাহের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি গার্ডেনটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ প্রদান করেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: