জাদুকরী প্রভাবে সিলেট-২ আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বি হুমায়ুন কবীর
Led Bottom Ad

জাদুকরী প্রভাবে সিলেট-২ আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বি হুমায়ুন কবীর

কায়ছারুল ইসলাম সুমন, যুক্তরাজ্য

১৫/০৯/২০২৫ ২০:৫৬:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে এই মুহুর্তে মাঠে-ঘাটে যে নামটি সর্বাধিক আলোচিত, তিনি হুমায়ুন কবির। অবস্থাদৃশ্যে অনেকেই এই নামের মানুষটিকে জাদুকর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ‘জাদুকর’ না হলেও নামটির অর্থ হিসেবে যা দাঁড়ায়, তার সাথে ব্যক্তি মানুষের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। হুমায়ুন কবির নামটি মূলত আরবি ও ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এটি মুসলিম সমাজে বহুল ব্যবহৃত একটি নাম এবং এটি ঐতিহাসিক গুরুত্বও বহন করে। এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সম্মান, গৌরব, সৌভাগ্য ও রাজকীয় মহিমার প্রতিচ্ছবি। নামটি শুধুমাত্র ব্যক্তির পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এক বিশেষ তাৎপর্যের বাহক। হুমায়ুন কবির সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের মন্তব্যগুলোই নামের স্বার্থকতাটাকে তোলে ধরে।


যেভাবে আলোচনায় তিনি

কর্মের মধ্য দিয়ে জেগে উঠে নাম। নাম অনেক ভালো থাকলেও নিজ কর্মে প্রতিফলন নেই অনেকের। যারা নামে এবং কামে (কর্ম) নিজেকে জাগিয়ে তোলেন, তিনি গণ মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন আমৃত্যু। কর্মগুনেই সিলেটে জাতীয়তাবাদী পরিবারে এখন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বি নাম হুমায়ুন কবির। নীরবে, নিভৃতে দলের জন্য কাজ করা এই মানুষটির নাম বেশি করে আলোচনায় আসে গেল বছরের ৫ আগষ্টের পর। এর আগে আওয়ামী শাসনামলে তিনি দেশে আসতে পারেন নি। বিদেশের মাটিতে থেকেও দলের প্রান্তিক মানুষের ভরসার কেন্দ্রস্থল ছিলেন তিনি। সংগ্রামে,সঙ্কটে,দুর্যোগে খোঁজ নিয়েছেন দলের প্রতিটি মানুষের। বিশেষ করে সিলেটের কিংবদন্তী দুই নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যু ও সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়া পরবর্তী গোটা ‍সিলেট য৩খন শুন্যতায় ভোগছিল, সেই সময়টাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন হুমায়ুন কবির। গ্রুপ,উপগ্রুপ ও দলীয়ে কোন্দলে তখন বিপর্যস্ত সিলেট বিএনপি। সেই দু:সময়টাতে প্রবাসের মাঠিতে থেকে সব বিভাজন দূরীকরণের মেশিনম্যান হিসেবে কাজ করেন তিনি। সকলকে বিভক্তি, গ্রপিং ভুলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং শহীদ জিয়ার আদর্শে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন হুমায়ুন কবির। তখন থেকেই নেতৃত্বের বিকাশ এবং দক্ষতার পরিচয়ে হুমায়ুন কবিরের নাম ছড়িয়ে পড়ে সিলেট বিভাগের সর্বত্র। গত ১৩ জুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের সময় থেকেই সারাদেশের মানুষ হুমায়ুন কবিরকে চিনলেও বিএনপি এবং সিলেটের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনামলেই। 


শিক্ষা 

সিলেটের এই কৃতিসন্তান ওসমানীনগরের বাসিন্দা। সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে। পড়াশুনা করেছেন সাসেক্স ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ¯স্নাতক, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স-এ রাজনীতিতে ¯স্নাতকোত্তর, ক্যামব্রিজ থেকে ম্যানেজম্যান্টের স্যোসাল এন্টারপ্রাইজে উচ্চতর ডিগ্রি, লিডস লর্ড স্কুলে এলএলএম শেষ করেছেন। বর্তমানে হার্ভাড ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলে জেনারেল ম্যানেজম্যান্ট প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত রয়েছেন। 


কর্ম

বিশ্বের সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশুনার পাশাপাশি হুমায়ুন কবির লন্ডন মেয়র অফিসে স্ট্র্যাটেজি এসিস্ট্যান্ট ছিলেন, পরবর্তীতে তিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কাজ করেছেন। লিসট্রাসের অফিসে ক্যাবিনেট কমিটির ম্যানেজার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিসি সুনাকের দফতরের মুখ্যপাত্রের সহকারী, বরিস জনশনের অধীনে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে কাজ করেছেন, টাওয়ার হ্যামলেট শাখার লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন এক সময়। যুক্তরাজ্যে যখন তার সামনে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের হাতছানি তখনই যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন তারেক রহমান অত্যন্ত মেধাবী তরুণ হুমায়ুন কবিরকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও বিএনপির জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ শুরু করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।


মানুষের ভরসা যখন হুমায়ুন কবির

এই নাম হঠাৎ করেই আলোচনায় আসে নি। এর পেছনে রয়েছে, অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ ও দু:সহ যন্ত্রণা। জাতীয়তাবাদী দলের অনেকের মতোই দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই-সংগ্রামের ধকল সামলিয়েছেন তিনি। সেই সময়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যখন হতাশাগ্রস্ত, তাদের পাশে ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কর্মবীর হুমায়ুন কবির।যখনই কোন নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছেন তাদের পাশে। যে কোন দুঃসময়ে সাহস যুগিয়েছেন তাদের মনে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তারা এখন এর প্রতিদান দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। ফলে দিগন্ত বিস্তৃত আকাশের মতো সর্বত্র আজ ছড়িয়ে আছে এই নাম। ওসমানীনগর-বিশ্বনাথের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন হুমায়ুন কবিরের নাম। তারা সকলেই আগামী নির্বাচনে তাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান। সম্প্রতি হুমায়ুন কবির এই দুই উপজেলায় দুটি বড় সুধী সমাবেশ করেছেন, সেখানে তিনি এই দুই উপজেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা, সঙ্কট, হাওর, কৃষি, শিক্ষা ও ক্রীড়াসহ অন্যান্য সেক্টর নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, এলাকার গুণীজন, কৃষক-শ্রমিকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ হুমায়ুন কবিরের পরিকল্পনা শুনে মুগ্ধ হয়েছেন। তার বক্তব্য ও সিলেট-২ আসন নিয়ে যে পরিকল্পনা সেটি তাদেরকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে। এরপর থেকেই এই দুই উপজেলার বিভিন্ন আড্ডায়-আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন হুমায়ুন কবির।


স্থানীয়দের মূল্যায়ন

ওসমানীনগর উপজেলার ৬ নং তাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম ইমরান রব্বানি বলেন, ওসমানীনগরে দীর্ঘদিন ধরেই কোন এমপি নেই। এই এলাকার মানুষ এবার ওসমানীনগর থেকে এমপি চায়। আর হুমায়ুন কবিরের মতো উচ্চশিক্ষিত, মার্জিত এবং গ্রহণযোগ্য মানুষকে পেয়ে সকলের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা, চলাফেরা, ভাব বিনিময়সহ সবকিছুতেই তার মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিলেটের জনপ্রিয় নেতা সাইফুর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন সকলে। তিনি শুধু ওসমানীনগর-বিশ্বনাথেই নয়, গোটা সিলেটেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।


ইমরান রব্বানি আরো বলেন, উনি দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে রয়েছেন। বিএনপির হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন। নানা কারণেই তিনি এই সময়ে দেশে আসতে পারেননি। কিন্তু সিলেটের মানুষের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল, যে কোন মানুষের বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন কিন্তু পাননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এজন্য সিলেট-২ আসনের মানুষ নিজেরাই তার হয়ে প্রচার-প্রচারণা করছেন, কাজ করছেন, মানুষের কাছে তারেক রহমান ও হুমায়ুন কবিরের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।


রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মূল্যায়ন

সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের সময় আমাদের অনেক নেতাকর্মী হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। হুমায়ুন কবির খবর পেয়ে সাথে সাথেই এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়াতেন, খোঁজ-খবর নিতেন। যারা কারাবন্দী হতেন তাদের আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে পরিবারের পাশে থাকা সবকিছুই করেছেন। ফলে নেতাকর্মীরাও এখন তার সঙ্গে থাকতে চায়, তাকে ওসমানীনগর-বিশ্বনাথের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায়।


তিনি বলেন, আমরা এই দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদের মতামত জানতে চাচ্ছি, একবাক্যে সকলেই তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতায় ঈর্ষান্বিত, তার বক্তব্য ও পরিকল্পনা শুনে মুগ্ধ। সকলেই হুমায়ুন কবিরকে এমপি প্রার্থী হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে, মনোনয়ন পেলে ভোট, সমর্থনের অঙ্গীকারও করছেন।


নিজের সম্পর্কে মূল্যায়ন

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বারবার বিব্রত বোধ করছিলেন তিনি। বলেন, নিজের পক্ষে কিছু বলাটা পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টকর ব্যাপার। আমি আসলে বলাটা কম,করাটা (কর্ম) পছন্দ করি। বিশেষ করে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সান্নিধ্য আমাকে কাজ করতে বেশি অনুপ্রাণীত করেছে। সেই শিক্ষাটা কাজে লাগাতে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, দল থাকলে বল থাকে। আর বল রাখতে হলে জনবান্ধব হওয়া দরকার। মানুষের জন্য কাজ না করলে,মানুষ আপনাকে চাইবে কেন? তিনি বলেন, আমরা অন্য কোন চাওয়া নেই, চাওয়া একটাই তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। নিজে কি পেলাম সেটা মুখ্য বিষয় নয়। তবে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। তিনি আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আজকের হুমায়ুন হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের কোন স্বার্থের বিষয়ে কখনো আপোষ করিনি।


সিলেট-২ আসনে প্রার্থীতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনেক কিছু ত্যাগ করেছি। অনেকে নিরুৎসাহিত করেছেন, অনেকে বলেছে ক্যারিয়ার গঠন করতে, কিন্তু সুযোগ থাকা স্বত্বেও এক মিনিটের জন্য স্বৈরাচার হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাইনি। উপরন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মামলা, হামলায় আহতদের, সিলেটে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করেছি। শুধু সিলেট নয়, দেশের যে কোন জেলার মানুষ সহযোগিতা চেয়েছেন চেষ্টা করেছি তাদের পাশে থাকার।


হুমায়ুন কবির বলেন, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে দুটি সুধী সমাবেশ করেছি, সেখানে মানুষের কথা শুনেছি, আমি তাদের জন্য, এলাকার জন্য নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তারা সেটি সাদরে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি চান তাহলে আমি সেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আর যদি ইলিয়াস আলী ফিরে আসেন তাহলে এই আসন তাকে ছেড়ে দেবো। বিএনপি সরকার গঠন করলে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বিষয়ে একটি কমিশন করার।


হুমায়ুন কবির আরো জানান, সিলেট-২ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি এই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে রয়েছি। আমি বিশ্বাস করি মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ পাবো।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad