ওসমানীনগরে ভূয়া নমিনি সাজিয়ে প্রবাসীর ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর মৃত্যুর পর ভূয়া নমিনি সাজিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এক ইউপি সদস্য ও ব্যাংক কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের মৃত সুনা উল্লাহর ছেলে লন্ডন প্রবাসী আইয়ুব উল্লাহ (৬৫) চলতি বছরের ১০ জুন সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে রেখে যান। জীবদ্দশায় তিনি জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখায় হিসাব নং–০১০০০৫১২৮০২২৩–এ প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জমা রাখেন।
কিন্তু গত ১ সেপ্টেম্বর দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুলতানা হোসাইন নিজেকে উত্তরাধিকারী দাবি করে বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি উত্তরাধিকার সনদ (স্মারক নং–৫২৫৯৫৭৯) সংগ্রহ করেন। অথচ মৃত আইয়ুব উল্লাহর ৭ সন্তান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জীবিত অবস্থায় বসবাস করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ— প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বাদ দিয়ে সুলতানা হোসাইনকে উত্তরাধিকার বানানো হয়েছে একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আখলাকুর রহমান। সহযোগী হিসেবে ছিলেন ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঝনিক লাল দেব এবং জনতা ব্যাংকের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পান্না লাল দেব। স্থানীয়রা জানান, পান্না লাল দেব হচ্ছেন ইউপি সদস্য ঝনিক লাল দেবের ছেলে।
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কায় চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান গা ঢাকা দেন। তবে পরিষদের একটি সূত্র জানায়, তিনি চলতি মাসের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডন সফরে যাওয়ার কথা থাকায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটি নিয়েছেন। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক আবুল হাসানাত সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যাংকের রেকর্ডে আইয়ুব উল্লাহর নমিনি হিসেবে সুলতানা হোসাইন রয়েছেন।”
অন্যদিকে প্রবাসীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও ব্যাংক কর্মচারী মিলে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য ঝনিক লাল দেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উত্তরাধিকার সনদ প্রদানের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। আমি এ ঘটনায় জড়িত নই।”
এ বিষয়ে তদন্ত না হলে মৃত প্রবাসীর পরিবার তাদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: