ক্ষমতার দাপটে গৃহবন্দি জীবন: দিরাইয়ে বিধবার জমিতে লোলুপ দৃষ্টি
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক বিধবা নারীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র, চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে নির্যাতন এবং জমিতে গড়ে তোলা ফলজ ও শাকসবজির বাগান কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু বাগান বিনষ্টই নয়, এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনসহ পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দিরাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজানগর এলাকায়।
এ ঘটনায় স্বস্তি ও সুবিচারের আশায় ভুক্তভোগী বিধবা নারী আলেয়া বেগম (৩৯) বাদী হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিরাই থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন দিরাই পৌরসভার রাধানগর ও কান্দাহাটি এলাকার বাসিন্দা জুয়েল তালুকদার (৪৫), ফারুক মিয়া (৫৮), আলী আমজাদ (৪৫) এবং আলী আশরাফ (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী আলেয়া বেগম ও তাঁর সন্তানেরা মরহুমা মা আরফুল নেছার সূত্রে প্রাপ্ত জমি (মৌজা: রাজাপুর, জেএল নং-৯২, খতিয়ান নং-২২৩, দাগ নং-১৬, পরিমাণ ০৫ শতক) দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সেই ভিটেমাটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় ওই প্রভাবশালী চক্রটির।
আলেয়া বেগম অভিযোগে আকুল কণ্ঠে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা অর্থ ও ক্ষমতার শক্তিতে বলীয়ান এবং উগ্র স্বভাবের হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এমনকি চলাচলের পথ বন্ধ করে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটানোর পর অবশেষে জীবন বাঁচাতে হাওরের পানিতে সাঁতার কেটে তারা বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ভিটেতে থাকা আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৪টি আমগাছ কেটে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের শাকসবজির গাছ, নেট ও বাঁশের বেড়া ভাঙচুর করে এক নিমিষেই তছনছ করে দেয় পুরো বাগানটি।
ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে প্রথমে সামাজিক ও গ্রাম্য সালিশের চেষ্টা করা হলেও বিবাদীদের অসহযোগিতায় কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি সুবিচারের আশায় তিনি দিরাই থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত জুয়েল তালুকদার বলেন, “আমি আমার নিজের রেকর্ডীয় জায়গা থেকেই গাছ কেটে এনেছি। আর পথ অবরুদ্ধের বিষয়ে বলতে গেলে—পরিবারের নারীরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে পথ বন্ধ করেছিল, আমি নিজে গিয়ে সেই পথ খুলে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রীতম দাস/নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: