ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন।
তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী তাসনিম জারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেন। তবে যাচাইয়ের জন্য নির্বাচিত প্রস্তাবক ও সমর্থকদের ১০ জনের মধ্যে দুজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন—এমন তথ্য পাওয়া যায়। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তবে যাচাই-বাছাই পর্বে তা গৃহীত হয়নি। ইতোমধ্যে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, যাচাইয়ের জন্য যে ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে আটজনই ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। বাকি দুইজন নিজেদের ঢাকা-৯ আসনের ভোটার মনে করে স্বাক্ষর দিলেও নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ অনুযায়ী তারা ওই আসনের ভোটার নন।
তাসনিম জারার দাবি, একজন খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যেখানে ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১—উভয় আসনের সীমানা রয়েছে। ফলে তিনি নিজেকে ঢাকা-৯-এর ভোটার মনে করেছিলেন। অপরজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ঢাকা-৯ আসনের ঠিকানা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের অনলাইন তথ্য অনুযায়ী তিনি শরীয়তপুরের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। ঠিকানা সংশোধনের আবেদন করলেও সেটির হালনাগাদ তিনি পাননি।
তাসনিম জারার অভিযোগ, এ ধরনের তথ্য যাচাইয়ের স্পষ্ট ও সহজ উপায় নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের বিরোধিতা করে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: