বালু মহালে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে জৈন্তাপুরে সংঘর্ষ, আহত ৮
জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীর বালু মহালে বারিক শ্রমিকদের নিকট থেকে অবৈধ ভাবে চাদাঁ উত্তোলন করা-কে কেন্দ্র করে (দুই পক্ষ) নৌকা শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত উভয় পক্ষের ৮ জন লোক গুরুত্বর আহত হয়েছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়গাং নদীর বাইরাখেল নামক স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এই ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পৃথক দু'টি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানাগেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে হর্নি-নয়াগ্রামের নৌকা শ্রমিক সুলেমান, সাদিক, আফজল,বুরহান উদ্দিন ও লোকমান আহমদ রয়েছেন এবং অপর পক্ষে বাইরাখেল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা বিলাল আহমদ মড়া, কয়েস আহমদ ও রাজীব আহমদ রাসেল আহত হন।
তাদের মধ্যে গুরুত্বর আহত নৌকা শ্রমিক আফজল সুলেমান, সাদিক, স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা বিলাল আহমদ মড়া কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। অন্য আহতদের জৈন্তাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা গ্রহন করে কয়েকজন বাড়িতে চলে গেছেন। গুরুতর আহত সুলেমান, সাদিক ও বিলাল আহমদ মড়া সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, চলিত বাংলা সনে বড়গাং বালু মহাল সরকারি ভাবে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাইরাখেল গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিছ আলী, বিলাল আহমদ মড়া, কয়েছ আহমদ, রাজীব আহমদ রাসেল'র নেতৃত্বে অন্তত ১০/১৫ জন গ্রামবাসি নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা লীজের বাহিরে রয়েছে বলে তাদের মালিকানাধীন জায়গা দাবী করে নৌকা শ্রমিকদের নিকট থেকে প্রতি নৌকা বালু উত্তোলন কালে ১৩ শত টাকা করে অবৈধ ভাবে চাদাঁ দাবী করেন।
তাদের দাবী মত টাকা পরিশোধ করা না হলে প্রায় প্রতিদিন নৌকা শ্রমিক এবং স্থানীয়দের মধ্যে জাগড়া বিবাদ লেগেই থাকে।
স্থানীয় নৌকা শ্রমিকদের অনেকই স্বীকার করেছেন এলাকাবাসির চাপের মূখে প্রতিদিন দুইশত ঘনফুট প্রতি নৌকা বালু উত্তোলন কাজে অন্তত কম হলেও ৫ শত টাকা চাদাঁ দিতে হয়। তবে ইদ্রিছ আলী জানিয়েছেন আমরা নৌকা থেকে কোন চাদাঁ উত্তোলন করি নাই। লীজ গৃহিতা বালু মহালের সরকারি রয়েলটি আদায় করে থাকেন।
তিনি জানান, এঘটনায় আহত বিলাল আহমদ মড়ার স্ত্রী আয়শা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপর পক্ষে আহত সুলেমান আহমদের পিতা নূর আহমদ বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় বাইরাখেল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, নৌকা শ্রমিকরা আমাদের মালিকানাধীন জায়গা থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করতে আসলে এলাকা বাসি বাধাঁ দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে মুলত: ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার চাদাঁর টাকার পরিমান ও আদায় করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (তদন্ত) উসমান গনি জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একটি পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সরজমিনে তদন্ত কাজ করছে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: