ওসমানীনগরে মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
সিলেটের ওসমানীনগরের দারুল উলুম ইসলাহুল বানাত ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ আলী হেলালীর বিতর্কিত বক্তব্য ও নানা অপকর্মের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। তাঁর দ্রুত অপসারণের দাবিতে বুরুঙ্গা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা আহমদ আলী হেলালীর বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যকলাপ ও উসকানিমূলক বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ, সুনাম এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
সভায় বক্তারা ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবমাননা, উসকানিমূলক মন্তব্য, আকিদাগত বিচ্যুতি, হত্যা মামলার দায় ও নৈতিক স্খলনসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আহমদ আলী হেলালী সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া সিলেট দরগাহ মাদ্রাসা ও মসজিদের পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে অনৈতিক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টের পাঁয়তারা করছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননার অভিযোগ এনে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও আলেম সমাজ বলেন, তিনি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের স্বীকৃত আদর্শের পরিপন্থী বক্তব্য দিয়ে মাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন কুসংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনগণের বিশ্বাসের ওপর আঘাত।
সভায় বক্তারা আরও দাবি করেন, মাওলানা আহমদ আলী হেলালী উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা শায়খুল ইসলাম হত্যা মামলার ১৬৪ ধারার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে আইনি অব্যাহতি পেলেও 'জনতার আদালত' থেকে তিনি মুক্ত হননি। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে সমকামিতাসহ একাধিক নৈতিক স্খলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগেও এই ইস্যুতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বক্তারা মাওলানা আহমদ আলী হেলালীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা থেকে অপসারণের জোর দাবি জানান। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ করা না হলে এলাকাবাসী আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা শায়েখ আহমদ চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদ হোসাইন ওয়াদুদ, হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী শফি এবং মাওলানা রাশিদুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
সজল আহমেদ / তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: