হকারদের পুনর্বাসনে প্রস্তুত হচ্ছে লালদিঘির মাঠ
প্রস্তুত হচ্ছে সিলেট নগরের লালদিঘির পাড়ের মাঠ। কাজ সম্পন্ন হলেই নগরের ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে ফুটপাত হবে হকারমুক্ত একইসাথে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে ভাসমান ব্যবসায়ীদের। জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলছে জোরশোরে। গতকাল সোমবার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন কাজের সাথে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে লালদিঘিরপাড় মাঠে বালু ফেলে সমতলকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যেই মাঠটির সংস্কার কাজ শেষ করে ব্যবসার উপযোগী করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে শুরু হবে হকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।
এর আগে গত শনিবার নগরীর বন্দরবাজার ও কিনব্রিজ এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। এ সময় হকারদের ১৫ দিনের মধ্যে সড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য লালদিঘীরপাড় এলাকায় একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে সেটিকে ব্যবসার উপযোগী করা হবে। এরপর হকারদের সেখানে বসানো হবে। যারা নির্ধারিত স্থানে যাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে রোববার থেকে কোনো হকার রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালাতে পারবেন না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, এই শহরের প্রধান সমস্যা হলো ফুটপাত দখল। আমরা সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই হকার পুনর্বাসনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। লালদিঘীরপাড়ে যে জায়গা নির্ধারিত আছে, সেটি দ্রুত সংস্কার করে হকারদের সেখানে নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেট নগরী হকারমুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যায়। এতে চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সব মহল থেকে হকার উচ্ছেদের দাবি ওঠার পর প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: