হবিগঞ্জে নীতিমালা ভেঙে এক বিএনপির নেতার নামে টিসিবি’র ৩ ডিলারশিপ
সরকারি ডিলার নিয়োগের নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল করিমের বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও তথ্য গোপন করে এসব ডিলারশিপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ ডিলার নিয়োগের তালিকায় ফজলুল করিমের মালিকানাধীন ‘স্নেহা ট্রেডার্স’ স্থান পেয়েছে। তবে একই নামে ফজলুল করিমের আগে থেকেই একটি খুচরা সার বিক্রির ডিলারশিপ রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ‘স্বপ্নীল ট্রেডার্স’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে সারের ডিলার হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফজলুল করিমের স্ত্রী উম্মে হাবীবা স্মৃতি।
অর্থাৎ, একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে সরকারের তিনটি ডিলারশিপ রয়েছে—যার দুটি ফজলুল করিমের নিজের নামে এবং একটি তাঁর স্ত্রীর নামে।
টিসিবি এবং সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত নীতিমালায় একই ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ডিলারশিপ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, তথ্য গোপন করে বা বিধি লঙ্ঘন করে একাধিক ডিলারশিপ নিলে সংশ্লিষ্ট সব ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার নিয়ম রয়েছে।
বিদ্যমান কঠোর নীতিমালা সত্ত্বেও ফজলুল করিম কীভাবে নিজের ও স্ত্রীর নামে তিনটি ডিলারশিপ পেলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ডিলার নিয়োগের সময় আবেদনকারীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেছিল কি না, সে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফজলুল করিম একাধিক ডিলারশিপ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ফয়সল চৌধুরী / নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: